নোটিশঃ
দৈনিক প্রতিবেদন অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে- আগ্রহীরা ই-মেইল করুনঃ dailyprotibedon24@gmail.com
সংবাদ শিরোনামঃ
৩ বছর ধরে বাহরাইনের জেলে নিরপরাধ বাংলাদেশি যুবক ইসলাম গ্রহণকারী পাঁচ তারকা খেলোয়াড় মদনে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত পরকালের ভয়ে অভিনয় ছেড়ে ইসলামের পথে সমালোচিত অভিনেত্রী সানাই নান্দাইলে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে রাস্তার অভাবে গৃহবন্ধী পরিবার প্রে‌মিকার উপর অ‌ভিমান ক‌রে প্রেমি‌কের আত্ম’হ’ত্যা নদী ভাঙ্গন ও বিদ্যুৎ সমস্যায় অচলাবস্থা মনপুরা দ্বীপের গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরে বো’মা-ক’ক’টেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার সালথায় পাট কাঁটা-ধোয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষীরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ভাগনেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মামারও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জ’বাই করে নির্ম’মভাবে হ’ত্যা করো’নায় ছেলের আক্রান্তের খবরে মারা যান মা, এরপর মারা গেলেন বাবাও মাছের ড্রাম থেকে বেরিয়ে এলো দশ যাত্রী, যা করা হলো তাদের ইমরান খানের জন্য এক হাজার কেজি হাড়িভাঙা আম পাঠালেন শেখ হাসিনা টিকার ৭৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০টি দেশের মানুষকেঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
জান্নাত থেকে আসে জমজম কুপের পানি

জান্নাত থেকে আসে জমজম কুপের পানি

জম’জম কূপ। ম’ক্কার মস’জিদুল হারা’মের অভ্য’ন্তরে অব’স্থিত একটি কূ’প বিশেষ।

পবি’ত্রতা ও বৈশি’ষ্ট্যে জম’জম কূ’পের পা’নি পৃথি’বীর সকল পানির চেয়ে উত্তম। কা’বা ঘ’রের ফ’জিলতের সঙ্গে জ’মজম কূপের মাহা’ত্ম্য ওত’প্রোতভাবে জ’ড়িত। কাবাঘ’রের ইতি’হাস ও জম’জম কূপ একের স’ঙ্গে অন্যটি গু’রুত্বপূ’র্ণভাবে জড়িত। হজ’রত ইবরাহিম (আ.)-এর ইতিহা’সের সঙ্গে জমজ’ম কূপের ই’তিহাস বর্ণ’না রয়েছে।

 

আল্লাহ’তায়ালার হুকু’মে হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন শিশু ইসমাঈলসহ বিবি হা’জেরাকে মক্কায় রেখে আ’সেন, তার কিছুদিন পর জমজম কূপে’র আবি’র্ভাব হয়। হজরত ইব’রাহিম (আ.) দুধের শি’শু ইসমা’ইল ও বিবি হা’জেরাকে মাত্র এক মশ’ক পানি এবং একটি থ’লেতে সা’মান্য কিছু খে’জুর দিয়ে গেলেন। হাজে’রা (আ.) মক্কার নির্জ’ন ভূমিতে ক’য়েকদিন পর্য’ন্ত ওই পানি ও খেজুর খে’লেন এবং ইস’মাঈলকে বুকের দু’ধ পান করালে’ন। কিন্তু এক সময় মশ’কের পানি ও খেজু’র ফুরিয়ে এল। তিনি ত’খন এক চর’ম অস’হায়তার মধ্যে নিপ’তিত হলেন। তার শি’শু সন্তা’নটিও ক্ষু’ধার তাড়নায় ছট’ফট করতে লাগলো। হজরত হাজেরা (আ.) তখন আদরের দুলালকে দুধ পানে সমর্থ হলেন না।

 

এমতাবস্থায় তৃষ্ণাকাতর মা পানির খোঁ’জে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে দ্রুতবেগে দৌঁড়াতে লাগলেন। পরপর সাতবার দৌঁড়ানোর পরও কোনো পানি না পেয়ে মহান আল্লা’হর কাছে সাহায্য চান। আল্লাহতায়ালা মা হাজেরার দোয়া কবুল করেন। তখন পুত্রের কাছে গিয়ে দেখলেন আল্লাহর কুদরতে তার দুই পায়ের নিচে একটি পানির ফো’য়ারা জেগে উ’ঠেছে এবং তা ক্রম’শ উথলে উঠছে ও প্রবা’হিত হতে চাচ্ছে। হজর’ত হাজেরা (আ.) তখন অত্য’ন্ত আনন্দিত হলেন এবং চার’দিকে পাড় বেঁধে পানি থা’মানোর চেষ্টা করলেন। তিনি পা’নিকে থামার নির্দে’শ দিয়ে উচ্চ’স্বরে বলছি’লেন ‘জমজম’ অর্থাৎ থেমে যাও। হজ’রত হাজেরার উচ্চা’রিত সে শ’ব্দেই পৃথি’বীর সবচা’ইতে পবিত্র এ কূ’পের নাম হ’য়ে যা’য় ‘জমজম’।

 

পরবর্তীতে বিভি’ন্ন গোত্র ও সম্প্র’দায় মক্কায় মা’নববসতির সূচ’না করে। তারা জম’জম কূপের নিয়’ন্ত্রণ করতো। ঠিক ওভাবেই জুব’হাম গোত্রের লো’কেরা জ’মজম কূপের নিয়’ন্ত্রণ লা’ভ করে। জু’বহাম গোত্রের লোকেরা হজরত হাজেরা (আ.)-এর সঙ্গে চুক্তিসাপেক্ষে জমজম কূপের পানি পান করতো। কালক্রমে তারা মক্কা’ঘরের পবিত্র মালামাল লুণ্ঠন ও চুরি করতে লাগলো। তারা নানা পা’পা’চারে লি’প্ত হলো। ফলে আল্লাহর হুকু’মে এক সময় জম’জম কূপের পানি শুকিয়ে গেল। সংস্কারের অভাবে একসময় জম’জম কূপের স্থান ভরা’ট হয়ে যায়। মানুষ এই কূপে’র বর’কত ও কল্যা’ণ থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।

খ্রিষ্টীয় প’ঞ্চম শতা’ব্দীর সূচনা’তে হজ’রত ইসমা’ঈল (আ.)-এর বংশ’ধর এক’জন দৃঢ়’চেতা, আত্ম’প্রত্যয়ী পু’রুষের নে’তৃত্বে কাবা’গৃহের রক্ষণা’বেক্ষণের দায়ি’ত্ব কুরাই’শরা ফিরে পায়। তাদে’র চতু’র্দশ পুরুষ খাজা আবদুল মুত্তা’লিব জন্মগ্র’হণ করেন। তিনি ছিলেন হজ’রত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা। তখন আব’দুল মুত্তা’লিব জম’জম কূপ অনুসন্ধানে আগ্রহী ও উদ্যোগী হন এবং তার এক পুত্র যায়েদকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন। এক রাতে তিনি স্ব’প্নে জম’জম কূপের নিশা’না খুঁজে পান এবং কূপটি দেখতে পান।

 

স্ব’প্নের চিহ্ন অনু’যায়ী তিনি তার পু’ত্র হারে’সকে সঙ্গে নিয়ে কূপ খন’নকা’র্য শুরু করেন এবং বা’স্তবেই জম’জম কূপ আবি’ষ্কারে সক্ষম হন। তখন থে’কে আবার মা’নুষ এ কূ’পের য”ত্ন নিতে শুরু ক’রেন। জমজম কূপ পৃথি’বীর সবচাইতে পবি’ত্রতম, বরক’তময় কূপ। এর পানি’ পৃথি’বীর সর্বো’ত্তম ও সু-স্বাদু পানি।

 

বি’ভিন্ন হাদিসে এ পানি’র কল্যা’ণের কথা উল্লেখ আছে। এক হাদি’সে ইর’শাদ হয়েছে, জমজমের পানি যে নিয়তে (নেক উদ্দেশ্যে) পান করা হয় তা পূরণ হয়। জমজমের অশেষ কল্যাণ ও বরকতের কথা অনেক হাদি’সে রয়েছে। হজ’রত আবু’বকর সিদ্দিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ’রত রা’সূলুল্লাহ (সা.) জমজমের পানি সম্পর্কে বলেছেন, যে তা হচ্ছে বরকতময় এবং তৃপ্তিদায়ক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আ’ব্বাস বলেন, হজরত রাসূ’লুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পৃথি’বীর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে জমজ’মের পানি।

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) নি’জ হাতে পানি উত্তো’লন করতেন এবং পান করতেন। জমজমের পানি শুধু তৃষ্ণাই নিবারণ ক’রে না, এর মধ্যে ক্ষুধাও নিবারণের যোগ্যতা রয়েছে। এ পানি মানুষের শরীরের স্বস্তিও প্র-বৃদ্ধি করে এবং হ-জমে সহায়তা করে। এছা-ড়া জমজমের পানির বা’হ্যিক বিভিন্ন বৈ’শিষ্ট্য র’য়েছে। এ পানি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত। জমজম কূপের আরো একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ থে’কে লাখ লাখ লি’টার পানি উ’ত্তোলন করলেও এর পানি’তে কখনো স্ব’ল্পতা দেখা যায় না।

 

জ’মজ’ম কূপ মূলত ম’হান আল্লা’হতায়ালা’র এক কুদর’তের নিদর্শন। মক্কায় হজ ও উমরা করতে আসা লাখ লাখ মানুষ প্রতিবছর লাখ লাখ টন পানি পান করে ও বাড়ি’ নিয়ে যায়। কিন্তু কখনও পানির স্বল্প’তা দেখা যায়নি। বস্তু’ত একথা দিবা’লোকের ন্যা’য় সত্য যে, জমজম কূপ মানুষের জন্য বি’শেষ করে হাজিদের জন্য আল্লাহর এক অপূর্ব নেয়ামত ও বরকতময় উপহার।

বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সউদ জম’জমের পূর্ব ও দক্ষি’ণে পানি পান করানোর জন্য দুটি স্থান নির্মাণ করেন। দক্ষিণ দিকে ৬টি এবং পূর্বদিকে ৩টি টেপ লাগানো হয়।

বর্তমানে কাবা ঘরের ২১ মি’টার দূরে অবস্থিত এই কূপটি থেকে ২০ লক্ষাধিক ব্যারেল পানি উত্তলিত হয়। এই কূপটি বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে। এই কূ’পের পানি বণ্টনের জন্য ১৪০৩ হিজরিতে সৌদি বাদশাহের এক রাজকীয় ফরমান অনুযায়ী হজ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বা’বধানে ইউনিফাইড ‘জামাজে’মা দফতর’ গঠিত হয়। এই দফতরে একজন প্রেসি’ডেন্ট ও এ’কজন ভাইস প্রেসিডেন্টসহ মোট ১১ জন সদ’স্য ও ৫ শতা’ধিক শ্রমিক ও কর্মচা’রী নিয়োজিত আছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© ২০২১ | দৈনিক প্রতিবেদন কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত

Design BY NewsTheme